তখন সময় সকাল ৯.৪৫ মিনিট।
রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে নিজের সাধের
কোলবালিশটাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাইতাছি। আহ কি শান্তির ঘুম,স্বপ্নের রাজ্যে কত যে হুর পরী রা এসে আমাকে দল দিয়ে যাচ্ছে,সবার সাথে কতইনা আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছি,সুন্দর সুন্দর বাগান,গাছ পালা বোন বনানী আর নদীর পাড় দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি,মনে হচ্ছিল যেন আমি স্বর্গে চলে গেছি,আহা এমন যদি বাস্তবে হতো তাহলে কতইনা ভালো হতো,এত সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখছি,কিন্তু আমার সুখ আর বেশিক্ষন রইলো না, একটু পরেই আম্মু আইসা ডাকা শুরু করলো। ডাকলে কি হবে? আমি তো আমার মতই স্বপ্নে বিভুর,একটু হুস ফিরে পেয়ে বিড়বিড় করে মাকে বললাম "আম্মু আরেকটু ঘুমাতে দাও প্লিজ" এরপর আম্মু চলে গেলো,এতবার আম্মু ডেকে গেলো তারপরও আমি বিড়ালের মত গুটিসুটি
মেরে শুয়ে আছি। এমন সময় কে জানি আমার
কোলবালিশ নিয়া টানাটানি শুরু করলো,আহা কি মুশকিল। মাত্রই ডেকে গেলে,আবার কেন এসে আমার ঘুমটা নষ্ট করছো আম্মু?
আমি : আম্মু আর অল্প কতক্ষণ ঘুমাই।
তারপর আর কোন সাড়াশব্দ নাই।কি ব্যাপার? আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে? আমি এখনও স্বপ্ন দেখছি না তো? কই না তো? বাস্তবেই তো আছি, কিন্তু এখন ভালাম আম্মু আজ এত ভাল হইল কেমনে?
অন্যদিন তো ডাকতে ডাকতে কান ঝালাপালা কইরা ফালাইত।যাউকগা
আমার এত ভাবাভাবির কাম নাই।মনের সুখে শুয়ে আছি।
এমন সময় ঝপাসস্(এক বালতি পানি আমার গায়ের উপর পড়লো?)। কি ব্যাপার ঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে বৃষ্টি পড়ছে নাকি?
লাফ মাইরা উইঠা বসলাম।এমন সময়
দেখি তিন্নি বালতি হাতে দাত বাইর কইরা হাসতেছে। মেজাজটা আমার কি যে খারাপ হলো সেটা আমি আপনাকে বলে বুঝাতে পারবো না, যাইহোক নিজেকে একটু শান্ত রেখে
আমি বললাম এইটা কি হইল?? বলে তাড়াতাড়ি উঠেন
নাহয় আরও অনেক বেশি কিছু হবে। কি আর করার মনের
দুঃখে ওয়াশরুম এ গেলাম ফ্রেস হইতে।
এই ফাঁকে আপনাদেরকে আমার পরিচয়টা দেই।
আমি রায়হান,মা বাবার একমাত্র সন্তান,তাই আমি তাদের খুব আদরের,মা বাড়ির গৃহিণী আর বাবা একটা সরকারী জব করে,আর আমি
এইবার অনার্স থার্ড ইয়ার এ পড়ি, আর যে শাকচুন্নি আমার ঘুমটা হারাম করে দিলো সে হইল তন্নি, আব্বুর এক পুরোনো
বন্ধুর মেয়ে।প্রতি বছর কোনো ভুল করা ছাড়া ১ মাস করে আমাদের
বাসায় বেড়াতে আসে।খুব আশ্চর্য ধরণের মেয়ে ও।
তন্নী ছোটকালে বর-বউ খেলার
সময় আমার বউ হওয়ার জন্য কি যে করতো তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না।তাকে আমার বউ হয়েই খেলতে হবে নইলে খেলতে দিত না।
যাইহোক ওয়াশরুমে এখনো ভালো ভাবে ফ্রেশ হয়ে শেষ করতে পারলাম না,আস্তে আস্তে মনের সুখে ফ্রেশ হচ্ছি, ঠিক তখনই ওয়াশ রুমের দরজায় ধমা ধম করে শব্দ হতে শুরু করলো,
আৎকে উঠলাম হঠাৎ,
ভূমিকম্প হচ্ছে না তো? ভয় পেয়ে বুকে থুথু দিলাম, অমনি বাহির থেকে আবার তন্নির ডাক, কি হল ওয়াশরুমে ঘুমিয়ে পড়লেন
নাকি?? উফফ কি যে করি? এই মেয়েটার জালায় একটু শান্তি নাই।যাইহোক ফ্রেশ হয়ে এবার খাবার টেবিল এ আসলাম। আজ ভার্সিটিতে যাব
না।তাই খাওয়া শেষ করে রুমে এসে কম্পিউটার টা
ওপেন করে KUNG FU PANDA 2 এনিমেশন মুভিটা
দেখছিলাম। এমন সময় তন্নী আমার রুম এ আসলো । এসেই কোনো কথা না বলে
কম্পিউটার এর পাওয়ার প্লাগ টা খুলে ফেললো।
তারপর কিছুই হয় নি এমন একটা ভাব নিয়ে বিছানা গুছাতে
লাগল। আমার মাথার মধ্যে আগুন জলতে লাগলো। কি শুরু করলো মেয়েটা? খুব রাগ হচ্ছে এখন আমার।
আমি বললাম এইটা কি হল?? উত্তর শুনে তো আমি থ।
বলে সারাদিন মুভি নিয়া পড়ে থাকলে আমাকে
দেখবেন কখন?? নিজেকে একটু সামলে নিয়ে পুনরায় আমি বললাম তুই কি
বিশ্ব সুন্দরি নাকি। ময়দার বস্তা। কিন্তু আসলে এইটা মিথ্যা বলছি
ওকে রাগানোর জন্য, সত্যি কথা বলতে তন্নী মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী,যেমন তার চেহারার সৌন্দর্য ঠিক তেমনই তার শরীরের গঠন,বিধাতা যেন খুব যত্ন করে নিজের হাতে ওকে বানিয়েছেন।যাইহোক "ময়দার বস্তা" এই কথা শুনে আমাকে
বল্ল এইটার শোধ আমি নিব। বলে রুম থেকে
চলে গেল আমি আর কিছু না বলে আবার মুভি দেখা
শুরু করলাম। আহা কি যে মজা,মুভিটা দেখে হেসে হেসে লুটুপুটু খাচ্ছিলাম, আমার সুখ আর বেশিক্ষন স্থায়ী হলো না,কিছুক্ষণ পর আম্মু খুন্তি হাতে রুমে
আসলো। আমি মনে মনে কইলাম রাশু আজকে তুই
শেষ। আমি বললাম কি হইছে আম্মু?এইটা বলার সাথে
সাথে শুরু হইল আম্মুর একশন - খুন্তি নিয়া তাড়া করতে
করতে বল্ল তুই এখনি তিন্নির কাছে সরি বলবি।।
নইলে তোর বাসায় আসা বন্ধ। এটা কেমন কথা হইলো? নিজের ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য মেয়ের জন্য নিজের ছেলেকে ঘরতাড়া করবে? লোজিকে মিলছে না,আমার উপর আক্রমণ হচ্ছে এইটা দেইখা অই
ফাজিল মাইয়া খুব মজা নিয়ে মহা আনন্দে মন ভরে দাঁত কেলিয়ে হাসতাছে।যাউকগা তারপর আমারে সরি
কইতে হইল। এইভাবেই দিনগুলো চলতে লাগল।
একদিন সকাল বেলা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি, বের হবো হবো অবস্থা,
এমন সময় আম্মু বলল তিন্নিকেও তর সাথে নিয়া যা।
আম্মুর বলতে দেরি হলো, বলতে না বলতেই ফাজিল মাইয়া টা ডিং ডিং কইরা আইসা আমার বাইকের পিছনে লাফিয়ে
উঠে বসলো। ভার্সিটিতে আমার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড আছে,যার নাম আনিকা ইসলাম আইসা,যাইহোক ভার্সিটিতে যাবার পর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড
আনিকা আইসা এসে প্রশ্ন করে বসলো hi what's up bro? বইলাই ওর সামনেই হাগ
দিল।এদিকে ওর সাথে আনিকাকে পরিচয় করিয়ে দেব ভাবছি,কিন্তু একি? পরিচয় করানোর আগেই দেখি তিন্নির গাল পুরা লাল হয়া আছে। বুঝতে পারলাম যে,ও রাগে টগবগ করে ফুটছে, মনে হয়।
আমাকে এখনই চাবায়া খেয়ে ফেলবে। যাইহোক তারপর বন্ধুদের
সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম ওকে নিয়ে।
সারা রাস্তায় একটা ও কথা বলে নাই। বাসায় আসার পর
ফ্রেশ হয়ে রুম এ কম্পিউটার নিয়া বসার সাথে সাথে
বলল অই মেয়ে টা আপনাকে হাগ দিল কেন।??
আমি ভাবলাম এইতো সুযোগ,নিশ্চই ওর জিলাস ফিল হচ্চে তাই জিজ্ঞেস করছে,এবার আমিও ওকে একটু রাগিয়ে দেই, যা ভাবা তাই কাজ,অল্প হেসে বললাম ও আমার গালফ্রেন্ড।। এইটা
শোনার পর রাগি মুখটা হঠাত কাল করে আর কিছু না
বলে চলে গেল রুম থেকে। কি বোকা মেয়ে
আনিকা আমাকে bro বলল তাতেও বুজল না যে আর
যাই হোক আমার গার্ল ফ্রেন্ড হতে পারে না। যাই
হোক রাতে খাবার টেবিলে ওকে নাদেখে আম্মু
কে জিজ্ঞেস করলাম কিন্ত আম্মু কিছু বলল না।
আজসকাল বেলা আমার ঘুম ভাঙলো বেশ দেরিতে
আজ কেউ বিরক্ত করে নি। ঘরটাও বেস চুপ- চাপ।
অজানা শুন্যতায় আমার মন খুব হাহাকার করে উঠল। রুম
থেকে বের হয়ে দেখি আম্মু খাবার টেবিলে
চুপ করে বসে আছে।আম্মুকে তিন্নির কথা
জিজ্ঞেস করতেই বলল, একটু আগে চলে
গেছে ১১.৩০ টায় বাস। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি
এখনো ২০ মিনিট আছে। তাড়াতাড়ি শার্ট পরে বাসা
থেকে।বের হলাম বাইক নিয়ে। কাউন্টার এ গিয়ে
দেখি মাথা নিচু করে বসে আছে।মনে হয় কাঁদছে। আহারে সুন্দরী মেয়েটার মুখটা যেন লাল বর্ন ধারণ করেছে,
পাশে গিয়ে বসলাম। তারপর আস্তে বললাম,
মেয়েটা আমার ফ্রেন্ড। বলার সাথে সাথে মাথাটা
তুলে আমার দিকে তাকালো।ইশ পুরো চোখ লাল
হয়ে গেছে কাজল গুলো লেপ্টে গেছে।
তারপর ও অনিন্দ সুন্দরী মায়াবিনী আমার।এরপর ওর
সামনে হাটু গেড়ে বসে ওর কোলের উপরে
থাকা হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে ওকে বললাম-
আমার প্রতিদিনকার ঘুম ভাঙানোর জন্য একটা তুমি
দরকার,আমার মায়ের সাথে একত্রে খাবার খাওয়ার
জন্য একটা তুমি দরকার,নদীর পাড়ে গোধুলিবেলায়
হাত ধরে একসাথে হাটার জন্য একটা তুমি দরকার আমার
সেই তুমি হবে???
বলতে না বলতেই আমাকে দাড় করিয়ে জড়িয়ে
ধরে ঝরঝর করে কাঁদতে লাগল।কিছুক্ষণ পর ব্যাগ
টা তুলে নিয়ে হাত ধরে দুজনে হাটতে লাগলাম।
সামনে আসছে দ্বিতীয় পর্ব।
mdjrahmad@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন