এক ও দুই নং প্রশ্নের ক ও খ এর উত্তর।
এক নং প্রশ্নের উত্তর।
(ক) ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা পেশ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।।
(খ) তমদ্দুন মজলিশ ছিল একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম ১৯৪৭ সালে এটি গঠন করেছিলেন।তবে,এইসব তমদ্দুন মজলিশের মূল পরিচয় নয়। তমদ্দুন মজলিশ বাংলা ভাষা আন্দলোনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যই গঠন করা হয়েছিল এবং ইতিহাসে তাই সমাদৃত। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য তারাই প্রথম দাবী জানায়।রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনেও তমদ্দুন মজলিশ নেতৃত্ব দিয়েছিল।
দুই নং প্রশ্নের উত্তর।
(ক) আগরতলা মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামী করা হয়, পরবর্তিতে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আগরতলা (ষড়যন্ত্র!) মামলা রুজু করে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান কে প্রধান আসামি করে জেলে ঢুকিয়ে ছিলো। তার সঙ্গে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদেরও এ মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।
(খ)১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারি। সেদিন ছিল হরতাল। এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব খান সরকার বিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় তীব্র এক গণঅভ্যূত্থানে।১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান । ফলে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্র হয়। পাকিস্তানি শাসকেরা একে নস্যাৎ করতে আগরতলা মামলা করে। মামলার প্রধান আসামি শেখ মুজিবসহ অন্যান্যদের মুক্তি ও পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারি সান্ধ্যআইন ভঙ্গ করে সাধারণ মানুষ মিছিল বের করে।সেই মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান কিশোর মতিউর রহমান মল্লিকসহ চারজন।এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই আইয়ুব খান ঘোষণা করেন তিনি আর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন না।ঢাকায় পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ ঘটে।এর মাঝে ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে ডক্টর শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয় এবং কারফিউ জারি করা হয়। ২০ তারিখে কারফিউ ভঙ্গ করে মশাল মিছিল করা হয় এবং ২১ তারিখ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয় শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে।এই আন্দোলনের জেরে আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে এবং ২২শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ মামলার অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়া হয়। এখন যেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত, সেখানে ২৩শে ফেব্রুয়ারি তাকে সম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং ভূষিত করা হয় বঙ্গবন্ধু উপাধিতে।সেখানেই সেদিন শেখ মুজিব জানান, তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে এগারো দফা দাবি তুলে ধরবেন।তোফায়েল আহমেদ এর ভাষায়, "বঙ্গবন্ধু তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, তিনি যদি ছয় দফা না দিতেন আগরতলা মামলা হতো না, এই মামলা না দিলে গণঅভ্যুত্থান হতো না, এই গণঅভ্যুত্থান না হলে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পারতাম না, আর তিনি মুক্তি না পেলে সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী হতাম না।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন