প্রচণ্ড পানি পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ। টেবিলের উপর
পানি ভর্তি জগ। কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে
করছেনা। আজকাল ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছুই করতে
ইচ্ছে করেনা। কথাটা অবশ্য পুরোপুরি সত্য না।
অনেক সময় এমন কিছু ইচ্ছে হয় যা পারতপক্ষে
করা যায়না। এইতো মেসের সবাই ঈদের ছুটিতে
বাড়ি চলে গেল। আমারও খুব যেতে ইচ্ছে
করছিল। ছুটিও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু যাওয়া হয়ে উঠেনি।
আসলে যাব কোথায় এটাই বুঝতে পারছিলাম না। সবার
বাড়ি বলতে যা থাকে আমার তো আর তা নেই।
কল্যাণপুরের একটা ভাড়া বাড়িতে বাবা, মা আর আমি
থাকতাম। পাঁচবছর আগে একটা রোড একসিডেন্টে
বাবা মারা যান, তার পিছন পিছন বছর খানেকের মধ্যে মা
ও ধরণী ত্যাগ করেন। সম্পূর্ণ একা আমি এখন থাকি
একটা মেসে। মা মারা যাওয়ার পর বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায়
বাড়িওয়ালা যখন বের করে দিচ্ছিল তখনই এই
মেসের ম্যানেজার আব্দুল করিম সাহেব আমাকে
এখানে নিয়ে এলেন। কষ্মিনকালেও আমার সাথে
তার কোন পরিচয় ছিলনা। তবুও কেন তিনি আমাকে
এখানে নিয়ে এলেন সেটা একটা রহস্যই রয়ে
গেছে। তাকে জিজ্ঞেস করলেও কোন
উত্তর পাওয়া যায়না। আমি অনার্স শেষ করতে পারিনি।
তবুও কিভাবে কিভাবে যেন একটা ছোট চাকরি
যোগাড় হয়ে গেল। এখন নিজেকে নিয়ে একার
সংসার। মেসে থেকে ভালোই দিন কেটে
যাচ্ছে। আমাদের মেসের সদস্য সংখ্যা বারো
জন। সবাই চলে গেছে। আমার রুমমেট রফিক
অবশ্য খুব জোড়াজুড়ি করেছিল তার সাথে যাওয়ার
জন্য। কিন্তু কেন যেন যেতে ইচ্ছে করেনি।
এখন মনে হচ্ছে গেলেই ভালো করতাম।
এদিকে বুয়াও জানিয়ে দিয়েছে ঈদের আগে আর
রান্না করতে আসবেনা। খাওয়া দাওয়া করতে হবে
হোটেলে। কোন মানে হয়! আত্মীয় স্বজন
বলতে যে একেবারেই কেউ নেই তা না। আমার
দাদার বাড়ি ময়মনসিংহে। দাদা বেচে নেই, কিন্তু এক
চাচা আছেন। তাদের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক
অবশ্য নেই। বিয়ের পর বাবা ঢাকায় চলে
এসেছিলেন। তারপর আর কোন দিন ওদিকে পা
বাড়ান নি। আমাদেরও আর যাওয়া হয়নি। কোন এক
অজনা কারণে চাচাদের পক্ষ থেকেও কেউ
কোন যোগাযোগ করেনি। এমন কি বাবা, মা মারা
যাওয়ার সময়ও তাদের কাউকে দেখতে পাইনি।
স্বাভাবিকভাবেই ওই বাড়িতে যাওয়া আমার জন্য
সমীচীন নয়। পানি পিপাসাটা এখন আর নেই। তবুও
প্রচুর পানি খেলাম। রাত বারো টায় হোটেলে
খেতে যাওয়ার কোন মানে হয়না। তারচেয়ে পানি
খেয়ে পেট ভর্তি করে ঘুমিয়ে পড়াটা ভালো।
মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিব এর চাকরি করায় এই এক
সুবিধা। অনেক হাটাহাটি করার ফলে ঘুম ও হয় প্রচুর।
একঘুমে রাত শেষ। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ঘুম
আসবেনা।
কাজকর্ম হীন জীবনে ঘুম আসতে চায়না। তবুও
চোখ বন্ধ করে পরে আছি। ফ্যানের খটখট
শব্দটা মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে। এটাও ঘুম না আসার লক্ষণ।
ঘুম আসলে এই শব্দটাকেই মধুর মনে হতো।
উঠে বসে একটা সিগারেট ধরালাম। অন্ধকারে
সিগারেট খাওয়ার একটা আলাদা মজা আছে। মানুষ
আসলে অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি সিগারেট খায়। শুধু
সিগারেট খাওয়ার জন্যই সিগারেট খাওয়া খুব একটা হয়ে
উঠেনা। আগুনের উঠানামা দেখতে ভালোই
লাগছে। পুরো সিগারেট টা শেষ করতে পারলাম না,
তার আগেই ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।
জানালা দিয়ে আধখাওয়া সিগারেট টা ছুড়ে দিয়েই শুয়ে
পড়লাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা। হঠাৎ দেখি
আমার মাথার পাশে একটা ছায়া মূর্তি বসে আছে। ঘর
অন্ধকার তবুও আমি তার হাতের বাকানো লাঠিটা
দেখতে পাচ্ছি। চেহারাটাও স্পষ্ট। ধবধবে সাদা চুল,
সাদা দাড়ি। পড়নের আলখাল্লাটাও সাদা। আমার জিজ্ঞেস
করা উচিত, কে আপনি? আমার ঘরে ঢুকলেন কি
করে? কিন্তু মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলনা।
কথাবার্তা তিনিই শুরু করলেন, ---কিরে গাধার বাচ্চা, সবাই
বাড়ি চলে গেছে তুই গেলিনা কেন? ---আমি যাব
কোথায়? আর আপনি ই বা কে, আমাকে গাধার বাচ্চা
বলছেন! ---তা অবশ্য কথা ঠিক বলেছিস। তুই
আমাকে চিনবি কি করে! তোর বাপ ছোট থাকতেই
আমি মরে ভূত হয়ে গেছি। কিন্তু তোদের
যন্ত্রনায় মরেও তো শান্তি নেই। তোর বাপটা ছিল
একটা পাগল। আফসোস পাগলামির শায়েস্তা করতে
পারিনি। তার পাগলামির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই আমি
পটল তুলেছি।
---তা আপনি মৃত অবস্থায় আমার কাছে আসলেন কি
করে? ---সাধে কি আর আসছি! সবাই বাড়ি চলে
গেছে, আর তুই গাধার মত পড়ে আছিস একা একা।
কে বলেছে তোর বাড়িঘর নেই! ময়মনসিংহ চলে
যা। ওটা তো তোরই বাড়ি। ---ওখানে কি আর
আমাকে কেউ চিনবে! তাছাড়া কোনদিন তো যাইও
নি। ---গাধাটা বলে কি! শোন, রক্তের আলাদা আলাদা
ঘ্রাণ থাকে। সেই ঘ্রাণেই নিজের মানুষ
গুলোকে চেনা যায়। ---কোথায়! আপনার ঘ্রাণে
তো আপনাকে চিনতে পারলাম না। আপনার তো
কোন ঘ্রাণই নেই। ---মরা মানুষের আবার ঘ্রাণ
কিসের রে গাধা! পরশু ঈদ। কালই রওয়ানা দিয়ে দে।
আর আমাকে তো কদমবুচি করলিনা। দাদাকে এতদিন
পর দেখলি, কদমবুচি করবিনা! আমি গেলাম কদমবুচি
করতে। কিন্তু কিসের দাদা! বিছানা থেকে উল্টে
গিয়ে পড়লাম মেঝেতে। অল্পের জন্য
টেবিলের পায়ার সাথে মাথা ঠুকে যায়নি। নইলে মাথা
ফেটে একটা কেলেংকারি অবস্থা হত। বুঝলাম স্বপ্ন
দেখছিলাম। কিন্তু ঠিক স্বপ্ন বলেও মনে হচ্ছেনা।
কথা গুলো
পানি ভর্তি জগ। কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে
করছেনা। আজকাল ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছুই করতে
ইচ্ছে করেনা। কথাটা অবশ্য পুরোপুরি সত্য না।
অনেক সময় এমন কিছু ইচ্ছে হয় যা পারতপক্ষে
করা যায়না। এইতো মেসের সবাই ঈদের ছুটিতে
বাড়ি চলে গেল। আমারও খুব যেতে ইচ্ছে
করছিল। ছুটিও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু যাওয়া হয়ে উঠেনি।
আসলে যাব কোথায় এটাই বুঝতে পারছিলাম না। সবার
বাড়ি বলতে যা থাকে আমার তো আর তা নেই।
কল্যাণপুরের একটা ভাড়া বাড়িতে বাবা, মা আর আমি
থাকতাম। পাঁচবছর আগে একটা রোড একসিডেন্টে
বাবা মারা যান, তার পিছন পিছন বছর খানেকের মধ্যে মা
ও ধরণী ত্যাগ করেন। সম্পূর্ণ একা আমি এখন থাকি
একটা মেসে। মা মারা যাওয়ার পর বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায়
বাড়িওয়ালা যখন বের করে দিচ্ছিল তখনই এই
মেসের ম্যানেজার আব্দুল করিম সাহেব আমাকে
এখানে নিয়ে এলেন। কষ্মিনকালেও আমার সাথে
তার কোন পরিচয় ছিলনা। তবুও কেন তিনি আমাকে
এখানে নিয়ে এলেন সেটা একটা রহস্যই রয়ে
গেছে। তাকে জিজ্ঞেস করলেও কোন
উত্তর পাওয়া যায়না। আমি অনার্স শেষ করতে পারিনি।
তবুও কিভাবে কিভাবে যেন একটা ছোট চাকরি
যোগাড় হয়ে গেল। এখন নিজেকে নিয়ে একার
সংসার। মেসে থেকে ভালোই দিন কেটে
যাচ্ছে। আমাদের মেসের সদস্য সংখ্যা বারো
জন। সবাই চলে গেছে। আমার রুমমেট রফিক
অবশ্য খুব জোড়াজুড়ি করেছিল তার সাথে যাওয়ার
জন্য। কিন্তু কেন যেন যেতে ইচ্ছে করেনি।
এখন মনে হচ্ছে গেলেই ভালো করতাম।
এদিকে বুয়াও জানিয়ে দিয়েছে ঈদের আগে আর
রান্না করতে আসবেনা। খাওয়া দাওয়া করতে হবে
হোটেলে। কোন মানে হয়! আত্মীয় স্বজন
বলতে যে একেবারেই কেউ নেই তা না। আমার
দাদার বাড়ি ময়মনসিংহে। দাদা বেচে নেই, কিন্তু এক
চাচা আছেন। তাদের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক
অবশ্য নেই। বিয়ের পর বাবা ঢাকায় চলে
এসেছিলেন। তারপর আর কোন দিন ওদিকে পা
বাড়ান নি। আমাদেরও আর যাওয়া হয়নি। কোন এক
অজনা কারণে চাচাদের পক্ষ থেকেও কেউ
কোন যোগাযোগ করেনি। এমন কি বাবা, মা মারা
যাওয়ার সময়ও তাদের কাউকে দেখতে পাইনি।
স্বাভাবিকভাবেই ওই বাড়িতে যাওয়া আমার জন্য
সমীচীন নয়। পানি পিপাসাটা এখন আর নেই। তবুও
প্রচুর পানি খেলাম। রাত বারো টায় হোটেলে
খেতে যাওয়ার কোন মানে হয়না। তারচেয়ে পানি
খেয়ে পেট ভর্তি করে ঘুমিয়ে পড়াটা ভালো।
মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিব এর চাকরি করায় এই এক
সুবিধা। অনেক হাটাহাটি করার ফলে ঘুম ও হয় প্রচুর।
একঘুমে রাত শেষ। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ঘুম
আসবেনা।
কাজকর্ম হীন জীবনে ঘুম আসতে চায়না। তবুও
চোখ বন্ধ করে পরে আছি। ফ্যানের খটখট
শব্দটা মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে। এটাও ঘুম না আসার লক্ষণ।
ঘুম আসলে এই শব্দটাকেই মধুর মনে হতো।
উঠে বসে একটা সিগারেট ধরালাম। অন্ধকারে
সিগারেট খাওয়ার একটা আলাদা মজা আছে। মানুষ
আসলে অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি সিগারেট খায়। শুধু
সিগারেট খাওয়ার জন্যই সিগারেট খাওয়া খুব একটা হয়ে
উঠেনা। আগুনের উঠানামা দেখতে ভালোই
লাগছে। পুরো সিগারেট টা শেষ করতে পারলাম না,
তার আগেই ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।
জানালা দিয়ে আধখাওয়া সিগারেট টা ছুড়ে দিয়েই শুয়ে
পড়লাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা। হঠাৎ দেখি
আমার মাথার পাশে একটা ছায়া মূর্তি বসে আছে। ঘর
অন্ধকার তবুও আমি তার হাতের বাকানো লাঠিটা
দেখতে পাচ্ছি। চেহারাটাও স্পষ্ট। ধবধবে সাদা চুল,
সাদা দাড়ি। পড়নের আলখাল্লাটাও সাদা। আমার জিজ্ঞেস
করা উচিত, কে আপনি? আমার ঘরে ঢুকলেন কি
করে? কিন্তু মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলনা।
কথাবার্তা তিনিই শুরু করলেন, ---কিরে গাধার বাচ্চা, সবাই
বাড়ি চলে গেছে তুই গেলিনা কেন? ---আমি যাব
কোথায়? আর আপনি ই বা কে, আমাকে গাধার বাচ্চা
বলছেন! ---তা অবশ্য কথা ঠিক বলেছিস। তুই
আমাকে চিনবি কি করে! তোর বাপ ছোট থাকতেই
আমি মরে ভূত হয়ে গেছি। কিন্তু তোদের
যন্ত্রনায় মরেও তো শান্তি নেই। তোর বাপটা ছিল
একটা পাগল। আফসোস পাগলামির শায়েস্তা করতে
পারিনি। তার পাগলামির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই আমি
পটল তুলেছি।
---তা আপনি মৃত অবস্থায় আমার কাছে আসলেন কি
করে? ---সাধে কি আর আসছি! সবাই বাড়ি চলে
গেছে, আর তুই গাধার মত পড়ে আছিস একা একা।
কে বলেছে তোর বাড়িঘর নেই! ময়মনসিংহ চলে
যা। ওটা তো তোরই বাড়ি। ---ওখানে কি আর
আমাকে কেউ চিনবে! তাছাড়া কোনদিন তো যাইও
নি। ---গাধাটা বলে কি! শোন, রক্তের আলাদা আলাদা
ঘ্রাণ থাকে। সেই ঘ্রাণেই নিজের মানুষ
গুলোকে চেনা যায়। ---কোথায়! আপনার ঘ্রাণে
তো আপনাকে চিনতে পারলাম না। আপনার তো
কোন ঘ্রাণই নেই। ---মরা মানুষের আবার ঘ্রাণ
কিসের রে গাধা! পরশু ঈদ। কালই রওয়ানা দিয়ে দে।
আর আমাকে তো কদমবুচি করলিনা। দাদাকে এতদিন
পর দেখলি, কদমবুচি করবিনা! আমি গেলাম কদমবুচি
করতে। কিন্তু কিসের দাদা! বিছানা থেকে উল্টে
গিয়ে পড়লাম মেঝেতে। অল্পের জন্য
টেবিলের পায়ার সাথে মাথা ঠুকে যায়নি। নইলে মাথা
ফেটে একটা কেলেংকারি অবস্থা হত। বুঝলাম স্বপ্ন
দেখছিলাম। কিন্তু ঠিক স্বপ্ন বলেও মনে হচ্ছেনা।
কথা গুলো
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন